দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সুন্দরবনে ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় কুখ্যাত বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর সঙ্গে কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ তিন দস্যুকে আটক করা হয়েছে। একইসঙ্গে বনদস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা চার জেলেকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান লেফটেন্যান্ট ইকরা মোহাম্মদ নাসিফ।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনের শ্যালা নদীর মরা চানমিয়া খাল এলাকায় করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ মে বিকেল ৫টা থেকে দুই দিনব্যাপী কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও স্টেশন কোকিলমনি যৌথভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা গুলিবর্ষণ শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। পরে কোস্ট গার্ডের তীব্র প্রতিরোধের মুখে দস্যুরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে করিম শরীফ বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়।
আটকদের কাছ থেকে তিনটি একনলা বন্দুক, একটি দেশীয় পিস্তল, ৪৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, দুটি ওয়াকিটকি ও চারটি ওয়াকিটকি চার্জার উদ্ধার করা হয়েছে।
আটক দস্যুরা হলেন- বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার মেহেদী হাসান (২৫) ও রমজান শরীফ (১৯), এবং ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার এনায়েত (২৫)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে দস্যুতা, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
এদিকে, বনদস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা চার জেলেকে উদ্ধার করে কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করেছে বন বিভাগ।
কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড আরও জানিয়েছে, বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এমএস/